Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮ সমাধান, বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনায় অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইইউ চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ। বাকি বাধাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত মার্চে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এসব সমস্যার বড় একটি অংশ দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।

সমাধান হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নের জটিলতা নিরসন। এ ছাড়া বাণিজ্যিক নমুনা আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে।

রফতানি পণ্যের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্তে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতাও দূর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এর মূল্য নির্ধারণে যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণে ইইউর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এফটিএ নিয়ে ইতিবাচক ইইউ

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউর অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় থাকলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।

বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বিমান চলাচল ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এয়ারবাস কেনার বিষয়ে আলোচনাও দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমদানি সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করেই আমদানি সিদ্ধান্ত নেয়।

জ্বালানি হিসেবে এলএনজি ও খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের মান এবং অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করে সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাব দ্বারা পরিচালিত নয়। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণই আমদানি ও বাণিজ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হলে রফতানি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে রপ্তানি বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে বাণিজ্য বাধা কমলে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধিও বাড়তে পারে। দীর্ঘদিনের বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এমআর/এআরএম