Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

প্রতি ডিমে গুনতে হচ্ছে ১৪ টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে ডিমের দাম। প্রতিটি ডিম খুচরা কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৪ টাকা। এক ডজন ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ১৬৫ টাকা। শুধু ডিম নয়, অধিকাংশ সবজির দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। তবে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাল ডিমের এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪৫ টাকায়। তবে খুচরা হিসাবে প্রতি ডিম ১৪ টাকা করে বিক্রি করছেন অনেক বিক্রেতা। চারটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আগে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা কিছুটা কম রাখলেও এখন সেই সুযোগও থাকছে না বলে জানান ক্রেতারা।

বাজারে মাছের দামও বাড়তি। প্রায় সব ধরনের মাছই গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।

বিক্রেতারা বলছেন, মাছের আকার, জীবিত বা মৃত এবং বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে মাছের বাজারে দাম বাড়তির দিকেই রয়েছে। তারা বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

8

আফজাল নামের এক বিক্রেতা বলেন, আমরাও কম দামে কিনতে পারলে কম দামেই বিক্রি করতে পারতাম। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ডিম ও সবজির দাম গত কয়েক দিনে বেড়েছে।

আরেক বিক্রেতা তালেব হাসান বলেন, ক্রেতারা দাম শুনে অনেক সময় কম পরিমাণে কিনছেন। এতে আমাদের বিক্রিও কমে যাচ্ছে। বাজারে সরবরাহ ও পাইকারি দাম স্বাভাবিক হলে খুচরা বাজারেও দাম কিছুটা কমে আসবে।

মিরপুর বাজারে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তাদের একজন মাহমুদ আকতার। তিনি বলেন, আগের তুলনায় বাজারে এসে এখন প্রায় প্রতিটি পণ্যেই বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। ডিমের দামই যদি ১৪ টাকা করে হয়, তাহলে এক ডজন কিনতেই ১৬৫ টাকা লাগছে। এর সঙ্গে সবজি ও মাছের দামও বেড়েছে। 

আরেক ক্রেতা ফালাক বেগম বলেন, এক-দুইটি পণ্যের দাম বাড়লে কোনোভাবে সামলানো যায়। কিন্তু একসঙ্গে ডিম, সবজি ও মাছের দাম বাড়ায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আগে যে টাকা নিয়ে বাজারে আসতাম, এখন একই পরিমাণ পণ্য কিনতে তার চেয়ে বেশি টাকা লাগছে। 

অন্যদিকে মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও আগের মতো রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা।

এএইচ/এএস