Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসালে মিলবে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

ছাদে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

এ সুবিধা পেতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপিত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরবর্তী তিন বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজটি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকেই কার্যকর হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগে পাওয়া বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক নিজের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। নতুন প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।

এ সময়ের মধ্যে স্থাপিত ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য দেওয়া হবে। এই সুবিধা ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী তিন বছর, অর্থাৎ ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পরে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

কম খরচে ব্যবস্থা করলে বাড়তি সুবিধা

সরকার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ধরে প্রণোদনার হিসাব নির্ধারণ করেছে। কোনো গ্রাহক এর চেয়ে কম ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তাঁর লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে খরচ কমানোর মাধ্যমে গ্রাহকের বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সরকারের এমন উদ্যোগের ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ নির্ধারণ ও প্রণোদনার অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ করবে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ, বিদ্যুতের মূল্য এবং প্রণোদনার হিসাবও সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনোভাবেই নগদ অর্থ পরিশোধ করা যাবে না। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতির মান নিশ্চিত করার শর্তও দেওয়া হয়েছে।

সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।

অর্থাৎ শুধু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করলেই প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মান পূরণ করতে হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে গ্রাহকদের নীতিগত সহায়তা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রাহকদের জন্য প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা সহজলভ্য হলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ দ্রুত হতে পারে। এর মাধ্যমে একদিকে গ্রাহক নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ পূরণ করতে পারবেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে আর্থিক সুবিধাও পাবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর উদ্যোগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারের বড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এর আগে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হলেও আর্থিক সুবিধার কাঠামো নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন প্রণোদনা সেই ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এমআর/এএইচ