নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে আগস্ট মাসে যেসব এলাকায় আবাসিক গ্রাহকেরা নিয়মিত গ্যাস পাননি বা অস্বাভাবিক নিম্নচাপের কারণে ব্যবহার করতে পারেননি, সেসব এলাকার নন-মিটার্ড গ্রাহকদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট মাসের নির্ধারিত পূর্ণ বিল সেপ্টেম্বর মাসে আদায় না করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।
একইসঙ্গে গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে সরবরাহের ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী বিল সমন্বয় এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বিল মওকুফের ব্যবস্থা করার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিইআরসির কাছে দেওয়া এক আবেদনে এ দাবি জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।
আবেদনে বলা হয়, দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে আগস্ট মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে অনেক আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের সরবরাহ থাকছে না। কোথাও আবার গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, চুলা জ্বালানোও সম্ভব হচ্ছে না।
এতে আরও বলা হয়, গ্যাস সংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নায় ভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন ও সিএনজি স্টেশনগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অথচ নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত সময় বা পরিমাণ বিবেচনা না করেই নির্ধারিত মাসিক হারে বিল পরিশোধ করতে হয়।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো গ্রাহক যদি মাসের উল্লেখযোগ্য সময় গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে ওই সময়ের জন্য পূর্ণ বিল আদায় করা ন্যায়সংগত নয়। গ্যাস না পেয়ে অনেক গ্রাহককে এলপিজি, বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকারসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে গ্যাসের সেবা না পেয়েও বিকল্প জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের।
আবেদনে আগস্ট মাসে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে এলাকাভিত্তিক সরবরাহের সময়, গ্যাসের চাপ ও ঘাটতির তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া যেসব এলাকায় আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য সময় গ্যাস সরবরাহ ছিল না কিংবা অত্যন্ত নিম্নচাপ ছিল, সেসব এলাকার নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের আগস্ট মাসের পূর্ণ বিল সেপ্টেম্বর মাসে আদায় না করার জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরবরাহ ঘাটতির মাত্রা অনুযায়ী বিল কমানো এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিল মওকুফের ব্যবস্থারও দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহকদের পাঠানো বিলে আগস্টের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিল সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকা বা অস্বাভাবিক নিম্নচাপের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল সমন্বয়ের জন্য স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে গ্রাহকদের প্রতিবার আলাদাভাবে অভিযোগ বা আবেদন করতে হবে না বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া এলাকাভিত্তিক দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সময় ও চাপের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং গ্যাস সংকটের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, গ্যাস সংকট এখন শুধু জ্বালানি সরবরাহের বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভোক্তা স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। সেবা না থাকলে সেই সেবার পূর্ণ মূল্য আদায় করা ভোক্তাবান্ধব ব্যবস্থা হতে পারে না।
এ কারণে আগস্ট মাসে গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নন-মিটার্ড আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে আগস্টের পূর্ণ গ্যাস বিল সেপ্টেম্বর মাসে আদায় না করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিল সমন্বয় বা মওকুফের ব্যবস্থা নিতে বিইআরসির জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।
একইসঙ্গে ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘সেবা না থাকলে বিল নয়’ অথবা ‘সেবা ঘাটতিতে বিল সমন্বয়’ নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এমআর/এএইচ