Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

কাতারের কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলএনজি চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সামুদ্রিক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার পর বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কাতারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতসহ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় ২৩তম ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের জরুরি সভার সাইডলাইনে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে হুমায়ুন কবির ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় কাতারের ভূমিকার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। আঞ্চলিক সংলাপ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাতারের গঠনমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কাতার যে মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা পালন করছে, বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে দেখছে।

এ সময় বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা ও এলএনজি সরবরাহের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। হুমায়ুন কবির কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সামুদ্রিক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার পর বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহে যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা থাকায় এলএনজি আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে কোনো ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় পড়তে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে কাতারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ আরও নিশ্চিত করার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষাতে এ বিষয়েই কাতারের সহযোগিতা কামনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

জবাবে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কাতারের আগ্রহের কথা জানান তিনি।

সাক্ষাতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানি খাত ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক যোগাযোগ স্বাভাবিক হলে এলএনজি সরবরাহে অগ্রাধিকার পাওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

এএইচ/এফএ