Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

ডলার কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

ডলারের দাম বাড়াতে কারসাজির সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)। 

সংগঠনটি বলেছে, ডলারের দর বাড়ার দায় বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানো না করে অবৈধভাবে ডলার লেনদেনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান এমসিএবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে। 

তিনি বলেন, ১২৮ টাকা বা তার বেশি দামে যারা ডলার লেনদেন করছেন, তারা লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার নন। অথচ বাজারে ডলারের দাম বাড়লেই এর দায় বৈধ মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানো হচ্ছে। দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানি চেঞ্জার সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

গৌতম দে বলেন, নির্দিষ্ট প্রমাণসহ অবৈধ মানি চেঞ্জিং প্রতিষ্ঠানের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি ও এনএসআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক বছর পার হলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কারা ডলারের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ডলারের যৌক্তিক দর সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে ডলারের দর ১২২ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে থাকা উচিত। এর সঙ্গে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা যোগ করে খোলা বাজারে ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৫ টাকা ৪৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণকে যৌক্তিক মনে করছে এমসিএবি। নির্ধারিত দরের বাইরে কোনো ডলার লেনদেন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্যাংক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গৌতম দে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের ডলার এনডোর্সমেন্ট করলেও প্রয়োজনীয় নগদ ডলার দিতে পারছে না। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে ডলার কিনছেন। বর্তমান বাস্তবতায় মানি চেঞ্জারদের ডলার এনডোর্সমেন্ট সীমাও অপ্রতুল বলে দাবি করেন তিনি।

লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করতে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান গৌতম দে। 

একই সঙ্গে ডলারের কারসাজি ও কালোবাজারি বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে যৌথ মনিটরিং টিম গঠনের দাবি জানান তিনি। এমসিএবিকে প্রয়োজনীয় তদারকি ক্ষমতা ও ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

এমসিএবির সভাপতি এম এস জামান বলেন, ডলারের বাজারে অনৈতিক কারসাজির দায় মানি চেঞ্জারদের নয়। মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি সীমিত হওয়ায় তাদের পক্ষে পুরো বাজার ম্যানিপুলেট করা সম্ভব নয়। মানি চেঞ্জাররা মূলত নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করেন। তারা ইলেকট্রনিক বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা লেনদেন কিংবা সরাসরি রেমিট্যান্স আনতে পারেন না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করেই বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন মানি চেঞ্জাররা। অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকাও বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের দেওয়া হয়েছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করে তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এমসিএবি জানায়, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে খোলা বাজারে ডলারের নতুন দর নির্ধারণ করে এমসিএবি। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা এবং ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করা হবে। 

এম এস জামান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে এ দর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জারকে এ দর জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

টিএই/এএইচ