Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ইপিআর নির্দেশিকাকে স্বাগত সিএলপিএর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা ও প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের দায়বদ্ধ করতে উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) নির্দেশিকা ২০২৬ জারি করায় সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ)। একই সঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সিএলপিএ এসব কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শুধু সরকার বা সাধারণ মানুষের ওপর না রেখে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের ওপর অর্পণ করা দূষণকারী দায় বহন করবে নীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ। এর ফলে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন থেকে ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত ও নিবন্ধন, বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এবং বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে বলে মনে করে সিএলপিএ।

সংগঠনটি বলেছে, প্লাস্টিক দূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও ক্রমবর্ধমান হুমকি। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, খাল, জলাশয় ও সমুদ্রে প্রবেশের ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদক ও বাজারজাতকারীদের ব্যবহার-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের আওতায় আনা সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তবে নির্দেশিকা জারির পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সিএলপিএ। সংগঠনটি বলেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এ কাজে নিয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্দেশিকার বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা আরও উচ্চাভিলাষী করা এবং প্লাস্টিক দূষণ কমাতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। উৎপাদনকারী ও ব্র্যান্ড মালিকদের দায়িত্বশীল উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব নকশা এবং পুনঃব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়াতেও উৎসাহিত করতে হবে।

সিএলপিএ আশা প্রকাশ করেছে, সরকার সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণে ইপিআর নির্দেশিকা ২০২৬-এর কঠোর, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ও চক্রাকার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

এএইচ/এআর