Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-নিলামে তুলছে কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম। এসব পণ্যের মধ্যে কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি-যন্ত্রাংশ, কাপড়, সুতা, টাইলস, সোলার মডিউল, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। নিলাম কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে বন্দরের কনটেইনার জট কমবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এনবিআর এ তথ্য জানায়।

এনবিআর জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বাড়ানো, বিদ্যমান কনটেইনার জট নিরসন, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য পণ্য নিয়মিত নিষ্পত্তি করছে কাস্টমস হাউস। এরই ধারাবাহিকতায় আগস্ট মাসে মোট ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশন বা ই-নিলাম পদ্ধতিতে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬-এর আওতায় ১০১ লটে ২৯০টি কনটেইনার পণ্য রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক বর্জ্য, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, সুতা, কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস ও গৃহস্থালি পণ্য রয়েছে। এছাড়া ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনারও রয়েছে। এই নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য রাখা হয়নি।

অন্যদিকে ই-অকশন নং-০৯/২০২৬-এর আওতায় ১০৯ লটে ১৫২ কনটেইনার পণ্য নিলামে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মূলধনি যন্ত্রপাতি, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট, এলিভেটর ও লবণসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

কাস্টমস জানিয়েছে, নিলাম প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পুরো কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হবে। ই-অকশন নং-০৯/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালে সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে।

আগ্রহী ক্রেতারা কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। ই-অকশন নং-০৯/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে।

অনলাইনে দর দেওয়ার সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্রও জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এর প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পণ্য খালাস নিতে হবে।

ই-অকশন নং-০৯/২০২৬-এর দরপত্র আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬-এর দরপত্র ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় উন্মুক্ত করা হবে।

নিলামসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টালে পাওয়া যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর এই নিলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনবিআর।

এমআর/এএস