নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
আর্থিক সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সদস্যরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সদস্যদের এক জরুরি মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
দুর্ঘটনা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সাম্প্রতিক গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সভা আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
সভায় সদস্যরা বর্তমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে দাবি ও সুপারিশগুলো তুলে ধরার জন্য বিকেএমইএর প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় সদস্যদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রায় এক মাস ধরে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত বা বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুতর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় নিয়মিত বকেয়ার পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে সংকটকালীন সময়ে বকেয়া বিলের কারণে কোনো গ্রাহকের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করারও দাবি জানানো হয়।
সভায় অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সদস্যদের মতে, অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা গেলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি ব্যবস্থার অপচয়ও কমবে।
গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় গণপরিবহন ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এতে শিল্প ও উৎপাদন খাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতি অনুযায়ী উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে পারবে এবং অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি কমবে বলে মনে করেন তারা।
সভায় খেলাপি ঋণ ঘোষণার সময়সীমা বর্তমান ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবিও জানানো হয়।
সদস্যরা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও রপ্তানি বাণিজ্যের সংকটের মধ্যে নতুন করে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় অনেক কারখানাই ঋণের কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়েছে। এ অবস্থায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাময়িকভাবে সুরক্ষা দিতে খেলাপি ঋণ ঘোষণার সময়সীমা ১২ মাস করা প্রয়োজন।
বিকেএমইএর সদস্যরা এসব দাবি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তুলে ধরে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংগঠনটির প্রতি আহ্বান জানান।
এমআর/এএম