Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

গ্যাস হুট করে আনার জাদু নেই, সংকট সমাধানে লাগবে ২ বছর: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন অবকাঠামো তৈরিতেও পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। তাই দ্রুত সংকট সমাধানের কোনো ‘জাদুকরী’ সমাধান সরকারের হাতে নেই।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘নীতি সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে— ব্যবসায়ীদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই যে, আমরা হঠাৎ করে গ্যাস ফিরিয়ে আনব।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়ও সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতি এগোতে পারে না। সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, আমরা দ্রুত সেসব নিচ্ছি। আগামী দুই বছর আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

এলএনজি টার্মিনাল, কয়লা ও সৌরবিদ্যুৎ

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এসব বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। ফলে চাইলেই রাতারাতি গ্যাসের সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, দেশের কোথায় কী ধরনের জ্বালানি কত পরিমাণে প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফুলবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও সঞ্চালনব্যবস্থা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার সমাধানেও কাজ চলছে।

দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি নীতি

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নীতি প্রকাশ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খণ্ড খণ্ড বা আংশিক তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিকল্পনা একটি পূর্ণাঙ্গ নীতির মাধ্যমে জানানো হবে। এতে কত সময় লাগবে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ে পরিবর্তন

রাজস্ব খাতের সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করার মাধ্যমে কর নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের কাজ আলাদা করা হবে।

আমির খসরু বলেন, কর নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি গ্রুপের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার দিকে এগোচ্ছে সরকার। এর ফলে কর রিটার্ন দাখিল, রিফান্ডসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য একটি তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল সভাপতিত্ব করেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ, রাজস্ব, ব্যাংক ও ব্যবসার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, শুধু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করাই নয়, ব্যবসায়ীরা সমস্যার সমাধানের অংশ হতে চান। ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

এফএ