Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

বাজার চড়া, ৮০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:২১ এএম

রাজধানীর বাজারগুলোতে বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো ৮০ টাকার ঘরে। কিছু সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের। বিশেষ করে টমেটো, গাজর, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতার দাম বেশ চড়া।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১৪০ টাকা কেজির মধ্যে।

বাজারে প্রতি কেজি চড়া, পটল, বেগুন, উচ্ছে ও লতি ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়শ ও শসার দাম ৬০ টাকা। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। ঝিঙে ও চিচিঙ্গার দাম ৭০ টাকা। অন্যদিকে টমেটো ও গাজরের দাম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা এবং ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল ভালো। তবে অনেকেই পছন্দের সবজি পরিমাণে কম কিনছেন। কয়েকজন ক্রেতা জানান, একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনতে গেলেই ব্যাগের খরচ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। এক সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমলেও বাজারে সামগ্রিকভাবে স্বস্তি ফেরেনি বলে জানান তারা।

সাদমান নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘এক কেজি করে কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা চলে যাচ্ছে। মাছ-মাংসের সঙ্গে সবজির বাজার সামলানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু সবজির দাম কমেছে, কিন্তু বেশির ভাগ এখনো ৮০ টাকার আশপাশে।’

4

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘পেঁপে ও শসার মতো কিছু সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু টমেটো, গাজর, মরিচ ও ধনেপাতার দাম অনেক বেশি। বাজারে এসে মনে হয় দাম কমার কথা শুনলেও বাস্তবে খুব একটা পার্থক্য নেই।’

বিক্রেতারা বলছেন, খুচরা বাজারে সবজির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের এককভাবে কোনো ভূমিকা নেই। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, দোকান খরচ ও নষ্ট হওয়ার ক্ষতি যোগ হওয়ায় খুচরা দামে প্রভাব পড়ছে।

এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা যে দামে কিনি, তার সঙ্গে সামান্য লাভ যোগ করে বিক্রি করি। আড়তে দাম বেশি থাকলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। বেশি দাম দিয়ে কেউ সবজি কিনতে চায় না, আমরাও চাই না।’

সবজি বিক্রেতা সাবিক হোসেন বলছেন, ‘কিছু সবজির সরবরাহ এখন ভালো থাকায় দাম একটু কমেছে। কিন্তু টমেটো, গাজর, মরিচ ও ধনেপাতার দাম এখনো বেশি। আড়তে দাম কমলে খুচরা বাজারেও দাম কমে যাবে।’

ব্যবসায়ীদের দাবি, আবহাওয়া, পরিবহন ব্যয় এবং বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের তারতম্যের কারণে সবজির দামে ওঠানামা করছে। কোনো কোনো সবজি দ্রুত নষ্ট হওয়ায় বিক্রি না হলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে। ফলে দিনের বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী অনেক সময় দাম নির্ধারণ করতে হয়।

তবে ক্রেতাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হলে এবং পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করা গেলে সবজির দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।

রাজধানীর বাজারে কিছু সবজির দাম কম থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বাড়তি মনে হচ্ছে। ফলে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও দামের কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ কাটেনি।

এমআর/এএস