নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম ও চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রফতানি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে অনুমোদন দেওয়া রফতানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে কমানো বা সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য রফতানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানো হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আগে দেওয়া রফতানি অনুমোদনের পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এজন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রফতানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন পাওয়ার পরও যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পরিমাণ চাল রফতানি করতে পারেনি কিংবা আংশিক রফতানি করেছে, তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে।
এর আগে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি এবং রফতানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
তবে ২ আগস্টের বৈঠকে জানানো হয়, অনুমোদন পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রফতানি করতে পারেনি। কেউ কেউ আবার আংশিক রফতানি করেছে। ফলে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রফতানির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
এদিকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত রয়েছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চাল সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার কারণেই দাম বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে রফতানির অনুমতি পেয়েও নির্ধারিত পরিমাণ চাল বিদেশে পাঠাতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা হবে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদিত রফতানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে প্রকৃত সক্ষম রফতানিকারকদের রফতানির সুযোগ অব্যাহত রাখা।
এমআর/এআরএম