নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, মাইক্রো, কুটির ও মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এসব শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলে অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আয়বৈষম্য কমে আসবে বলেও জানান মন্ত্রী।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বগুড়া বিসিক জেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিল্পমালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের অবদান প্রায় ৩৬ শতাংশ। এই অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করা গেলে অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে আয়বৈষম্যও কমবে। কারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তখন আরও বেশি মানুষ সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র, মাঝারি, মাইক্রো ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তার ব্যাপক বিস্তার ঘটানো। অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা যত বাড়বে, অর্থনৈতিক সুফল তত বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।’
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও চামড়াশিল্পের উন্নয়নে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ দুই খাতে নকশা ও কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ভৌত অবকাঠামোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ইতালি, জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে নকশা প্রণয়নের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন অপারেটরদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার পাশাপাশি সৈয়দপুরও এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রেলওয়ে জংশন ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৈয়দপুর একটি সম্ভাবনাময় শিল্পকেন্দ্র। এ অঞ্চলের উদ্যোক্তা ও আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের জন্য ওই কেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের শিল্প কাঠামো প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে শ্রমঘন শিল্পের গুরুত্ব অনেক বেশি। হাইটেক ও অধিক পুঁজিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফার পরিমাণ বেশি হলেও এসব খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প শ্রমঘন ও কম পুঁজিনির্ভর।
তিনি বলেন, ‘১৩-১৪ শতাংশ সুদে কম পুঁজির ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কস্ট অব ফান্ড কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ সহজলভ্য করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে অতীতে তৈরি হওয়া নানা জটিলতা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সময়ের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’
এমআর/এএম