নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
ডিমের ট্রের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দামাদামি করলেন রিকশাচালক মো. সাইফুল ইসলাম। এক ডজন ডিম হাতে নিয়ে আবার রেখে দিলেন। পরে বিক্রেতাকে বললেন, ‘এক হালি দেন। পুরো ডজন নেওয়ার মতো টাকা নেই।’
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ এলাকার একটি দোকানে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সাইফুলের ক্ষেত্রেই নয়, আরও অনেক ক্রেতার ক্ষেত্রে দেখা গেল। কেউ এক ডজনের বদলে ছয়টি, কেউ আবার চারটি ডিম কিনে বাজার শেষ করছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের দাম বাড়ার পর থেকে পুরো ডজন কিনছেন এমন ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে।
মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও আকারভেদে দাম আরও কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে। প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। কয়েক সপ্তাহ আগেও একই ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত বলে জানান ক্রেতারা।
কথা হয় রিকশাচালক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আগে বাসার বাচ্চাদের জন্য প্রায়ই এক ডজন ডিম কিনতাম। এখন ডজনে ১৫০ টাকা। বাজারে এসে সবজি, চাল আর তেল কেনার পর আর পুরো ডজন ডিম কেনার সামর্থ্য থাকে না। তাই প্রয়োজন থাকলেও কম নিয়েই ফিরতে হচ্ছে।’
মিরপুর ৬ এলাকার কাঁচাবাজারে গৃহিণী রুবিনা আক্তার ছয়টি ডিম কিনে ব্যাগে রাখছিলেন। তিনি বলেন, ‘ডিমকে একসময় গরিব মানুষের আমিষ বলা হতো। এখন সেই ডিমই বিলাসিতার মতো হয়ে গেছে। পরিবারের সবাইকে প্রতিদিন ডিম খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। হিসাব করে কিনতে হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: দিনে কয়টি ডিম খাওয়া উচিত?
ডিম বিক্রেতা আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে চাই না। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও সেই প্রভাব পড়ছে। অনেক ক্রেতাই এখন এক ডজনের বদলে অর্ধেক ডজন নিচ্ছেন।’
পাশের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, ‘সকালে যে পরিমাণ ডিম বিক্রি হতো, এখন তা কমে গেছে। মানুষ দরদাম করে, তারপর প্রয়োজনের চেয়ে কম কিনে চলে যাচ্ছেন। বিক্রি আগের মতো নেই।’
শুধু ডিম নয়, বাজারের অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও চড়া। সবজির বেশির ভাগই ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। দেশি মাছের দামও আগের তুলনায় বেশি। ফলে কম আয়ের মানুষের কাছে ডিম ছিল তুলনামূলক সাশ্রয়ী আমিষের উৎস। কিন্তু সেই ডিমের দামও এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মাহবুব আলম বলেন, ‘আগে সপ্তাহে দুই-তিন ডজন ডিম কিনতাম। এখন এক ডজন কিনতেও ভাবতে হয়। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই সংসারের বাজেট ঠিক রাখতে ডিম কেনাও কমিয়ে দিয়েছি।’
বাজার করতে আসা গৃহিণী শারমিন সুলতানা বলেন, ‘মাছ-মাংসের দাম বেশি, তাই ডিম দিয়ে অনেক সময় রান্না করা হতো। কিন্তু এখন ডিমের দামও এত বেড়েছে যে সেটাও নিয়মিত করা যাচ্ছে না। বাচ্চাদের কথা ভেবেই কষ্ট করে কিনতে হচ্ছে।’
এএইচ/এমআই