নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরকে দেশের বাণিজ্য ও রফতানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেছেন, এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা রপ্তানি বৃদ্ধি এবং এলডিসি-উত্তর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোরিয়া থেকে ৯০৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে এবং রফতানি করে ৪৯২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৪১১ মিলিয়ন ডলার।
তিনি বলেন, সিইপিএ কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্য, অর্থাৎ ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য, শুল্কমুক্তভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রফতানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে এ চুক্তি সহায়ক হবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে কারিগরি সহযোগিতাও আরও জোরদার হবে।
এফবিসিসিআই প্রশাসক আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক আমদানি করে, যার মাত্র ৩ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে যায়। নতুন এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য রফতানি পণ্যের জন্যও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সিইপিএ চুক্তি দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন করায় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মো. ফজলুল হক বলেন, এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আরও বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এমআর/এআরএম