জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ব্যাংক ব্যবস্থার তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রায় তিন দশক ধরে চালু থাকা টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবের স্থিতি লিয়েন রেখে তফসিলি ব্যাংকগুলো আর এই সুবিধা নিতে পারবে না।
সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে জানানো হয়, সিদ্ধান্তটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ১৯৯৪ সাল থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু ছিল।
সে সময়ের নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা চলতি হিসাবে লিয়েন হিসেবে সংরক্ষণ করা হতো। তবে ওই অর্থ বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবের অংশ হিসেবে গণ্য করা যেত না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি তারল্য চাহিদা পূরণে কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ একাধিক আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এসব বিকল্প ব্যবস্থার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধার ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় অনেক ব্যাংক বাস্তবে সুবিধাটি ব্যবহার না করলেও অনুমোদিত সীমার বিপরীতে চলতি হিসাবে লিয়েন বহাল থাকায় ওই অর্থ সিআরআর হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছিল। এতে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক অনুপাত (রেগুলেটরি রেশিও) ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।
এ কারণে ব্যাংকিং হিসাবায়ন সহজ করা এবং বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া এই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ফলে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাব লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা আর কার্যকর থাকবে না।
টিএই/এএইচ