Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

৯ মাস পর ভারত থেকে আমদানি শুরু, কমছে কাঁচামরিচের ‘ঝাল’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় নয় মাস পর ভারত থেকে আবার কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচবোঝাই চারটি ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম চালানে ভারত থেকে ২৯ মেট্রিক টন ৪৪০ কেজি কাঁচামরিচ এসেছে।

ভারতের নাসিক ও বিহার থেকে এসব কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে। প্রথম চালানে আমদানিকারক হিসেবে রয়েছে রাজ এন্টারপ্রাইজ, সজীব এন্টারপ্রাইজ, আল মক্কা এন্টারপ্রাইজ ও মেহেদী এন্টারপ্রাইজ। আমদানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টন ৩০০ মার্কিন ডলার।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের উৎপাদনের ওপরই বাজারের সরবরাহ অনেকটা নির্ভরশীল ছিল। সম্প্রতি টানা বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচামরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়।

এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। অনুমতি পাওয়ার পর আমদানিকারকেরা অনলাইনে আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) নেওয়া এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এরপর সোমবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়।

আমদানির খবরে এরই মধ্যে স্থানীয় বাজারে কাঁচামরিচের দামে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হিলি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও কাঁচামরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ার খবরে বর্তমানে তা ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম কমেছে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা কাঁচামরিচের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি বাজারে পৌঁছায়নি। আমদানি বাড়লে এবং দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভারতীয় কাঁচামরিচ সরবরাহ শুরু হলে দাম আরও কমতে পারে। এতে ভোক্তাদের ওপরও বাড়তি দামের চাপ কিছুটা কমবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

হিলির আমদানিকারক সজীব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে অনলাইনে আবেদন করে তারা কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। প্রথম চালানে আসা কাঁচামরিচ হিলিতে ট্রাকসেলে বিক্রি না করে দ্রুত ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে পাঠানো হচ্ছে। এতে দ্রুত বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন জানান, সারা দেশে মোট ৬৬টি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে হিলি স্থলবন্দরের ১৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরেও নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

এআর