নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির মোট বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত ‘জুলাই-জুন ২০২৬ পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ শীর্ষক মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএমইডির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই এডিপি বাস্তবায়নের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ হার ছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাস্তবায়ন হয় ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশে। সর্বশেষ অর্থবছরে আরও কমে গিয়ে তা ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি টানা পাঁচ বছর ধরে নিম্নমুখী রয়েছে।
আইএমইডির হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার ৩০৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা সংশোধিত এডিপির ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই মাসে ব্যয় হয়েছিল ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের শেষ দিকে ব্যয় বাড়ানোর চেষ্টা থাকলেও আগের বছরের তুলনায় তা কম ছিল।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন ছিল ধীরগতির। পরবর্তী সময়ে অর্থ ছাড় বাড়লেও জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনে বিলম্ব এবং বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ে ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়নি। অনেক প্রকল্পে ঠিকাদারি জটিলতা ও সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যায়নি।
আইএমইডি বলছে, এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে পরিকল্পনা প্রণয়ন, অর্থ ছাড়, ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রকল্প তদারকি এবং বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন সরকার সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। তবে সর্বশেষ বাস্তবায়ন চিত্র বলছে, শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, সময়মতো এবং দক্ষতার সঙ্গে সেই বরাদ্দ ব্যয় নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বাড়ছে, ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্প শেষ হতে বিলম্ব হওয়ায় জনগণও নির্ধারিত সময়ে সেবার সুফল পাচ্ছে না।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এডিপি বাস্তবায়নের নিম্ন হার সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জ্বালানি, পরিবহন ও স্থানীয় সরকার খাতের উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়তে থাকায় সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এএইচ/এফএ