নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ভোজ্য তেলের দাম আবারও বাড়ানোর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাত দেখিয়ে বারবার ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল ভোক্তারা পান না। নতুন করে দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সোমবার (২৭ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন। দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম কমে গেলে তার কোনো প্রতিফলন দেশের বাজারে দেখা যায় না।
ক্যাব নেতা বলেন, সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সুযোগ ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই খুঁজছিলেন। ইরান যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে সামনে আনার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। সম্প্রতি আবারও তারা ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে বন্যার অজুহাতে সবজি ও চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্থির সময়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং জনগণের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ে গুটিকয়েক আমদানিকারক ব্যবসায়ী কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
ক্যাবের এই নেতা বলেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অনেকটাই ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করছেন, সরকারও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না। এ অবস্থায় নতুন করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে। এমনিতেই নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে, তার ওপর ভোজ্য তেলের মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও পড়তে পারে।
এমআর/জেবি