নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
রাজধানীর খুচরা বাজারে মাছের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছই কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে অর্থাৎ হাঁসফাঁস অবস্থায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। তবে স্বস্তির খবর হলো, গরু, খাসি ও মুরগির মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ডেমরা, স্টাফ কোয়ার্টারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতলা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, কই মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের বৃষ্টি, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই মাছের দাম বেড়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
ডেমরা বাজারের মাছ বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, ‘আড়ত থেকে আগের চেয়ে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করছি। সরবরাহ বাড়লে দামও কমবে।’
অন্যদিকে মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে ক্রেতা শূন্য মাছ বাজার
স্টাফ কোয়ার্টার বাজারের মাংস বিক্রেতা আবদুল করিম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরবরাহ ভালো থাকায় আগের দামেই বিক্রি করছি।’
মাছের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। ডেমরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি সপ্তাহেই মাছের দাম বাড়ছে। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগে যে টাকায় দুই-তিন দিন চলার মতো মাছ কিনতাম, এখন এক দিনের বাজার করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
একই বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘মাংসের দাম অন্তত স্থির আছে, কিন্তু মাছের বাজারে এলেই নতুন দাম শুনতে হয়। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম মাছ কিনে ফিরতে হচ্ছে।’

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টি কমে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত উচ্চ দামের কারণে মাছের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না, আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
এমআর/এমআই