নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম এবং বর্তমান সরকারের ষষ্ঠ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৭২৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ১১ হাজার ১৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সভায় তিনটি নতুন প্রকল্প এবং ছয়টি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প, বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।
নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ‘মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প।
২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা জনপদ, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ও নতুন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদনের জন্য উঠছে। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই প্রকল্প ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
একই সংস্থার আরেকটি নতুন প্রকল্প ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’-এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এলজিইডির ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২)’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও উপস্থাপন করা হচ্ছে। সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটির ব্যয় ৩৬৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ১ হাজার ২৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। সংশোধনী অনুমোদিত হলে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকালও বাড়বে এবং নতুন ব্যয়ে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
সবচেয়ে বেশি ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় সংশোধনীতে। এতে ব্যয় ৯ হাজার ৪৯২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট প্রকল্প ব্যয় ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ১৩ হাজার ২৪২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ‘একটি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ শীর্ষক ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’-এর তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় ১১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের একনেক সভায় উপস্থাপিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জ্বালানি অনুসন্ধান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।
একনেকের অনুমোদন মিললে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করবে।
এএইচ/এএইচ