নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ)-এর তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রণীত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এসব তথ্য জানান।
আতাউর রহমান খান বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির পাশাপাশি বাংলাদেশকে বর্তমানে রফতানি খাতে অশুল্ক বাধা, আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইআইএফের আগের পর্যায়গুলোতে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ১২টি অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যা দেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন প্রণয়ন নয়, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কারের সুফল যাতে মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
আতাউর রহমান খান জানান, বাণিজ্য সহজীকরণ, ব্যবসাবান্ধব আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও উন্নত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ‘ডব্লিউটিও’র ইআইএফ কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হয়। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ এই কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইআইএফ’র দুটি পর্যায় সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায় ২০০৯ সালে শুরু হয়ে ২০১৫ সালে শেষ হয় এবং দ্বিতীয় পর্যায় ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে এবং চলতি বছর থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।’
কর্মশালায় ইআইএফ’র পরামর্শক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য, শিল্প ও বিনিয়োগ নীতি এবং পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫২টি সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করা হলেও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো থেকে ১২টি কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’
এই কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধি।
কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, ইআইএফ’র তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পরও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করবে।
এমআর/এফএ