নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডিমের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। একই বাজারে ছোট আকারের লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, আর বড় আকারের একই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। আকারভেদে ৫০ টাকার এই ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতাদের দাবি, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ছোট ও বড় ডিম আলাদা করে বিক্রি করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট আকারের লাল ডিম ডজনপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে ১৫টি ছোট ডিম ১০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বড় আকারের লাল ডিমের ডজন ১৩০ টাকা, সাদা ডিম ১২০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী রহিম মাঝি বলেন, ‘ডিমের দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা আগের মতো কিনছেন না। তাই আমরা ছোট ডিম আলাদা করে কম দামে বিক্রি করছি। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা হলেও কিনতে পারছেন। ছোট ডিমের ডজন ৮০ টাকা, আবার ১৫টি ১০০ টাকাতেও দিচ্ছি।’
তবে বিক্রেতাদের এমন ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন ক্রেতাদের একাংশ। কারওয়ান বাজারে আসা ক্রেতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ছোট-বড় আলাদা করার কারণে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ছোট ডিম কম দামে বিক্রি করে বড় ডিমের দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাকেই বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।’
গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘আগে ডজন হিসেবে ডিম কিনতাম। এখন একই বাজারে কয়েক ধরনের দাম। পরিবারের জন্য বড় ডিম কিনতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। এতে মাসের বাজারের বাজেটও ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।’
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয়, মুরগির খাদ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাব ডিমের বাজারে পড়ছে। তবে একই বাজারে আকারভেদে আলাদা দামে ডিম বিক্রির বিষয়টি এখন ক্রেতাদের আলোচনার কেন্দ্রে। তাদের ভাষ্য, ডিম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্যতম প্রধান প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস হওয়ায় দামের এই ব্যবধান সরাসরি সংসারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে।
এমআর/এমআর