জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনোমিকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা। এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকার উত্তরায় সিমেক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির দোয়েল সেমিনার হলে ব্লু ইকোনোমি থিংক ট্যাংকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নীতি-নির্ধারণী ও পরামর্শসভায় বক্তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নে সমুদ্র-অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় জাতীয় অংশীজনদের পরামর্শসভা শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমুদ্র বিপুল সম্পদের আধার। এ সম্পদ আহরণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ, জাতীয় রূপরেখা এবং প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার এবং জাতীয় অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমুদ্র-অর্থনীতি বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং গবেষকদের এ খাতের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং সমুদ্র-অর্থনীতিকে জাতীয় আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমুদ্র-অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক (বিনিয়োগ প্রচার বিভাগ) জীবন কৃষ্ণ সাহা রায়, প্রাইম ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের উপপ্রধান ফারিবা নাজ শাওলী, নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সেতু, সিমেক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ফোয়ারা ইয়াসমিন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. রতন কুমার রায়, পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মো. নুরুল আমিন এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি নুর-উন-নাহার উইলি। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস–২০২৪-এর অ্যালামনাই সদস্য, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং গবেষকেরা আলোচনায় অংশ নেন।
সমুদ্র-অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় ও অংশীজনদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতায় ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস–ড্রাইভিং চেঞ্জ: অ্যালামনাই গ্র্যান্টস ফর ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় এ পরামর্শসভার আয়োজন করা হয়।
বিইউ/এআর