লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
লেবুগাছে ফুল ও ফল না ধরার সমস্যা দূর করতে এবং গাছের দ্রুত বাড়বাড়ন্ত নিশ্চিত করতে কিছু সহজ ঘরোয়া ও কার্যকরী পরিচর্যা গ্রহণ করা যেতে পারে। টবের মাটিতে নির্দিষ্ট কিছু উপাদান সঠিকভাবে মিশিয়ে দিলে ও নিয়মিত যত্ন নিলে লেবুগাছে থোকা থোকা ফল ধরতে শুরু করে।
লেবুগাছ লাগানোর জন্য বসন্তকাল অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ এবং বর্ষাকাল অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। গাছ লাগানোর জন্য অন্তত ১৮ ইঞ্চি মাপের টব নির্বাচন করতে হবে, যার নিচে পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ড্রেনেজ হোল বা নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকে। গাছের মাটি হিসেবে ঝুরঝুরে ও কাঁকর-পাথর মুক্ত মাটি ব্যবহার করা উচিত।
মাটি তৈরির সময় কিছু বিশেষ উপাদান মেশানো অত্যন্ত জরুরি। গাছের শিকড়ে যাতে ছত্রাক আক্রমণ না করতে পারে এবং পাতার ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়, সেজন্য মাটির সঙ্গে প্রায় ২৫০ গ্রাম নিম খোল মিশিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, লেবু গাছের সঠিক বৃদ্ধি ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটাতে মাটির সঙ্গে ৫০০ গ্রাম স্টোন পাউডার এবং এক মুঠো আয়রন পাউডার ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
গাছের বাড়তি যত্ন ও ফলন বাড়াতে নিয়মিত প্রুনিং বা ডালপালা ছাঁটাই করা উচিত। গাছের নষ্ট হয়ে যাওয়া বা পুরনো ডালপালা কেটে ফেললে নতুন ডাল গজায়, যা গাছকে আরও ঘন ও ঝোপালো করে তোলে। এছাড়া টবের মাটির চারপাশের আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করে মাটি কিছুটা আলগা করে দিতে হবে। গাছের জন্য প্রতিদিন অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টার রোদের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
পুষ্টির জোগান দিতে প্রতি কুড়ি থেকে পঁচিশ দিন অন্তর জৈব বা দেশি সার ব্যবহার করা যেতে পারে। কলার খোসা এবং আলুর খোসা একসঙ্গে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নিয়ে মাসে একবার পানির সঙ্গে মিশিয়ে টবের মাটিতে ঢেলে দিলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতি পনেরো দিন অন্তর নিম তেল স্প্রে করার নিয়ম রাখতে হবে।
মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত লেবুগাছের বৃদ্ধির আসল সময়। এই সময় নিয়মিত সার দিতে হলেও একই সার বারবার ব্যবহার না করে পালা করে বিভিন্ন ধরনের জৈব সার প্রয়োগ করা উচিত। যেমন, গাছের ফুল ও ফল ধরাতে লাল-বাদামি সামুদ্রিক শৈবালের নির্যাস থেকে তৈরি জৈব তরল সার ‘সাগরিকা’ খুবই কার্যকর। এক ছোট ঢাকনা পরিমাণ এই সার এক লিটার পানিতে মিশিয়ে টবের মাটিতে দিলেই গাছে দ্রুত ফুল ধরতে শুরু করে।
গাছে ফুল আসতে শুরু করলে পানির পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে, কারণ অতিরিক্ত পানির কারণে ফুল ঝরে পড়তে পারে। ফুল আনার ক্ষেত্রে সর্ষের খোলও অত্যন্ত উপকারী, তবে তা একবার ফুল আসার আগে এবং দ্বিতীয়বার ফুল থেকে ফল ধরার সময় পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া আলুর রস কিংবা ফিটকিরি মেশানো পানিও টবের মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত এই ঘরোয়া ও সঠিক পরিচর্যাগুলো মেনে চললে লেবুগাছ তরতরিয়ে বেড়ে উঠবে এবং ডালগুলো থোকা থোকা লেবুতে ভরে যাবে।
এজেড