মুহা. তারিক আবেদীন ইমন
১১ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ এএম
- কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছেছে ২২ হাজার ২৮৫ কোটি টাকায়
- এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২৩ শতাংশ
- ১০ মাসে কৃষি ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২২.৪৩ শতাংশ
- একই সময়ে কৃষি ঋণ আদায় বেড়েছে ১৬.৭৯ শতাংশ
- এপ্রিলে কৃষি ঋণ বিতরণ ৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা
- বেসরকারি ব্যাংকের সক্রিয়তায় ঋণ বিতরণে গতি
- শস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণের অংশ বেড়েছে
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে ঋণ আদায়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক চিত্রকে ম্লান করে দিচ্ছে কৃষি খাতের খেলাপি বা বকেয়া ঋণের অস্বাভাবিক উল্লম্ফন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে কৃষি ঋণের বকেয়া ১২৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় পুরো আর্থিক খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির মাসিক প্রতিবেদন’-এ এ চিত্র উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) কৃষি ঋণ বিতরণ ও আদায়—উভয় ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে তফসিলি ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতের বকেয়া বা খেলাপি ঋণ প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২২ হাজার ২৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল শেষে এই অঙ্ক ছিল ৯ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২৩.০১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বকেয়া ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় সামগ্রিক খেলাপি ঋণের চিত্র এতটা খারাপ হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ও কঠোর ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালার প্রভাবেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাফে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল শেষে ব্যাংকিং খাতে কৃষি ঋণের মোট স্থিতি (সুদসহ) দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এই বিপুল ঋণের বিপরীতে ২২ হাজার ২৮৫ কোটি টাকাই এখন বকেয়া বা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা কৃষি অর্থায়নের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। যদিও খেলাপি ঋণের এ চিত্র উদ্বেগজনক, তবুও কৃষি ঋণ বিতরণে গতি কমেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ২.৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকৃত বিতরণ ৩৭ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার তুলনায় ৪.৪৮ শতাংশ বেশি।
>> আরও পড়ুন
খাতভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রায় সবচেয়ে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। তাদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ১০ হাজার ২২৩ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু এপ্রিল মাসেই দেশের সব তফসিলি ব্যাংক মিলে ৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে। মার্চ মাসের তুলনায় এটি ২১.৯১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলের তুলনায় ১৭.৪০ শতাংশ বেশি। আর জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট বিতরণ হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের প্রায় ২৮ হাজার ১০০ কোটি টাকার তুলনায় ২২.৪৩ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই সামগ্রিক কৃষি ঋণ বিতরণে এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
ঋণ বিতরণের ধরনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, উৎপাদনশীল খাতগুলোতে অর্থায়নের প্রবণতা বেড়েছে। জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট বিতরণকৃত কৃষি ঋণের মধ্যে শস্য খাতে বরাদ্দের অংশ ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন খাতে ঋণের অংশ ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে মৎস্য খাতে ঋণের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১৪ শতাংশ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ঋণের অংশ আগের মতোই ৪ শতাংশ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে কৃষি ঋণ ধীরে ধীরে আরও বেশি উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্যাংকগুলো ৪ হাজার ৩১১ কোটি টাকার কৃষি ঋণ আদায় করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১০.৫৩ শতাংশ এবং আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২৮.২১ শতাংশ বেশি। জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট ঋণ আদায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল প্রায় ৩০ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আদায় বেড়েছে ১৬.৭৯ শতাংশ। বিশেষ করে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আদায় ১২৫.৬৪ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আদায় ২৯.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক আদায়ে এ উন্নতি হয়েছে।
>> আরও পড়ুন
ব্যাংকিং খাতের বাইরে গ্রামীণ অর্থায়নেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। এপ্রিল মাসে সংস্থাটি প্রায় ৮৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ এবং ৯৩ কোটি টাকা আদায় করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড (বিএসবিএল) ২৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এপ্রিল মাসে নতুন কোনো ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। তবে ৪ লাখ টাকা বকেয়া আদায় করেছে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) গ্রামীণ অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এপ্রিল মাসে সংস্থাটি তাদের ২৮৯টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৫.১০ শতাংশ বেশি। এপ্রিল শেষে পিকেএসএফের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে বকেয়া রয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা।
ক্ষুদ্রঋণ খাতেও ঋণ বিতরণ বেড়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক এবং দেশের শীর্ষ ১০টি এনজিও—যার মধ্যে ব্র্যাক, আশা, ব্যুরো বাংলাদেশ ও টিএমএসএস উল্লেখযোগ্য—এপ্রিল মাসে সম্মিলিতভাবে ১৮ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮.৩৪ শতাংশ বেশি। গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও আশা—এই তিন প্রতিষ্ঠানই মোট বিতরণকৃত ক্ষুদ্রঋণের ৬৯.৬৪ শতাংশ সরবরাহ করেছে। বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক ১৪ হাজার ৪৮২টি শাখার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা গ্রহণ করছেন।
এপ্রিল শেষে ক্ষুদ্রঋণ খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা মোট স্থিতির ৬.৫৮ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রান্তিক গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে, যা বকেয়া ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
কৃষি অর্থায়নের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা নির্দেশনার মাধ্যমে কাঁচা পাট রফতানিকারকদের জন্য মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুবিধার সময়সীমা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে অশ্রেণিকৃত স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণ এবং কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের ঋণের বিপরীতে মাত্র ০.৫০ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখার বিশেষ সুবিধা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়াতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণের সময়সীমাও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্যদিকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে জারি করা নির্দেশনার আলোকে গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ (ইসিএল) ভিত্তিক প্রভিশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সর্বশেষ এ চিত্রে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থায়নের দুটি বিপরীত প্রবণতা একসঙ্গে উঠে এসেছে। একদিকে ঋণ বিতরণ ও আদায়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি উৎপাদনের ক্ষতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, কার্যকর ঋণ তদারকি এবং শক্তিশালী ঝুঁকি প্রশমন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে আরও কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ঢাকা মেইলকে বলেন, কৃষি ঋণ কিছু সরাসরি কৃষকের কাছে যায়, কিছু এনজিওর মাধ্যমে যায়, বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে যায়। সবই যে কৃষকের কাছে সরাসরি যায় তা তো না। আমার যেটা অবজারভেশন সেটা হলো, প্রকৃত কৃষকের কাছে যে ঋণ সরাসরি যায় সেটার রিটার্ন খুবই ভালো। কিন্তু যেগুলো মিডিয়ার মাধ্যমে কিংবা অন্যান্য মাধ্যমে যায় সেগুলো কৃষি ঋণ, কিন্তু আসলেই কৃষক তা পায় না। ওই ঋণগুলোতে খেলাপি বেশি।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত কৃষকের কাছেই যদি ঋণটা যায় তবে তো রিটার্ন ভালো হওয়ার কথা। সেটা যাচ্ছে কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। আমার ধারণা কৃষকের কাছে যতটা যাওয়ার কথা বা বলা হয় ততটা যায় না। খেলাপি কমাতে হলে প্রকৃত কৃষকের কাছেই যেন ঋণটা যায় এবং সেই ঋণটা যাতে সত্যি সত্যি কৃষি খাতে ব্যয় করা হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
টিএই/এএস