Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে, তবু স্বস্তি নেই বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

দেশে টানা কয়েক মাসের উচ্চ মূল্যচাপের মধ্যে জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে আসায় সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি মিললেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। একই সঙ্গে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতিও ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে আসার কারণেই সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। মে মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।

তবে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি কমলেও মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক মে মাসের ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে জুনে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। মাসওয়ারি হিসাবে জুনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি এলেও তা এখনো মূল্যচাপের প্রধান উৎস হিসেবে রয়ে গেছে। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সেই তুলনায় চলতি বছরের জুনেও এ হার অনেক বেশি। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।

গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলেও এ হার ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার এখনো তুলনামূলক বেশি। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

এদিকে, সর্বশেষ মজুরি হার সূচকেও মজুরি বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। যদিও এ হার আগের বছরের একই মাসের সমান রয়েছে।

খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জুনে কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে নেমেছে। আর সেবা খাতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিবিএস জানিয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার তথ্যের ভিত্তিতে মজুরি হার সূচক প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান খাতেই মাসওয়ারি মজুরি বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে মজুরি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে, ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতিও কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত মিললেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজারব্যয়ে এখনো সেই স্বস্তির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

এএইচ/এআর