নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৮০ শতাংশই বেসরকারি খাত থেকে উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, জ্বালানি আমদানির চাপ এবং বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলা বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অনেককেই জ্বালানি আমদানি করতে হয়। কিন্তু বকেয়া পরিশোধে বিলম্ব হলে তারা জ্বালানি কিনতে পারে না, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রভাব এখনও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রয়ে গেছে। একই সঙ্গে সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ঋণের চাপ সামাল দিতে সরকারকে নানা দিক সমন্বয় করতে হচ্ছে। এ কারণে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন: স্বর্ণের দামে বড় পতন
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করতে পিডিবির একজন সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। দলটি দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।
বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল নিয়ে সাম্প্রতিক অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তনের কারণেও বিল বাড়তে পারে। তবে অনিয়মের অভিযোগ এলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত এ ধরনের অভিযোগ ও প্রতিবেদন তার নজরে আনছেন বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’-এ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
তিনি কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার আগে সাশ্রয়ী মূল্য কাঠামো, আইনি প্রতিকারের সুযোগ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) স্বাধীনতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে শতভাগ বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষাও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
এমআর/এআরএম