Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

চাল-মুরগির দামে অস্বস্তি, সবজিতে মিলছে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে বাড়া চালের দামও এখনো কমেনি। তবে সবজি, পেঁয়াজ, রসুনসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ-সংকটের কারণে মুরগির দাম বেড়েছে। আর চালের বাজারেও এখনো দাম কমার কোনো ইঙ্গিত নেই।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। একইভাবে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ দুই ধরনের মুরগির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বনশ্রী বাজারের বিক্রেতা সাব্বির বলেন, পাইকারি আড়তেই মুরগির দাম বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। এ কারণেই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

এদিকে দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বাড়া চালের দাম এখনো আগের অবস্থায় রয়েছে। বাজারে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকা কেজি, নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং বিআর-২৮ বা মাঝারি মানের চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে।

7

চালের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, মিলপর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দাম বহাল রয়েছে।

অন্যদিকে সবজির বাজারে স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। মৌসুমি ও গ্রীষ্মকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। বাজারে বেগুন ও কাকরোল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, কুমড়া ৫০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে টমেটোর দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

মেরাদিয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা হাকিম আবির বলেন, সবজির দাম এখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু চালের দাম একবার বাড়লে আর কমতে চায় না। এখন আবার মুরগির দামও বাড়তে শুরু করেছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে চালের বাজারে কার্যকর নজরদারি ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্বল্পমেয়াদে দাম কমার সম্ভাবনা কম।

এমআর/এএস