Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রফতানি সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, ইলিশকে শুধু দেশের চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ইলিশের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পানির গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। শিল্পবর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ নদীতে নিঃসরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জাটকা নিধন, মা ইলিশ আহরণ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান তিনি।

জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ জেলে দাদননির্ভর জীবনযাপন করেন। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে ইলিশের অবস্থান শীর্ষে। বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ফলে বাংলাদেশের ইলিশের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

তিনি বলেন, ইলিশকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও গবেষণায় আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনায় গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

জেলেদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলেদের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সহায়তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ইলিশ সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা ছাড়া এ ক্ষেত্রে টেকসই সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক-এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/এআর