images

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ৭ দফা দাবি সচেতন গ্রাহক ফোরামের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুন ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, মালিকানা ‘প্রকৃত মালিকদের’ কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ সাত দফা দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। দাবি আদায়ে আগামী ২১ জুন ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এবং ২২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন। 

অধ্যাপক নুরনবী বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থা, সঞ্চয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ব্যাংকটির সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশিদ আলমের নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক খানকে অপসারণের পর থেকে ব্যাংকটির সুশাসন ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ২৪ মে থেকে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন গ্রাহকরা।

ফোরামের নেতারা জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদ ও ড. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে তারা ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। সেখানে একটি দক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক চেয়ারম্যান প্রত্যাহার এবং তারল্য সংকট মোকাবিলায় কিছু সহায়তামূলক পদক্ষেপ নিলেও ব্যাংকের সার্বিক সংকট নিরসনে উত্থাপিত সাত দফা দাবির বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়।

গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাধীন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের মালিকানা আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধন এবং ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার।

অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সংগঠনটির নেতারা সতর্ক করে বলেন, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবি হলো—

১. সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
২. ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
৩. ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
৪. ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ও অপপ্রচার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫. বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা।
৬. ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধন।
৭. ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া বিতর্কিত সংসদীয় বক্তব্য প্রত্যাহার।

এমআর/এএস