নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৪ এএম
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির চলমান চ্যালেঞ্জের কারণে বিদেশি বিনিয়োগের চেয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সংস্থাটি মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিডা আয়োজিত এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সংঘাত, জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী এখন নতুন সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কৌশল গ্রহণ করেছেন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। এই বাস্তবতায় বিডা দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধ ও অচল রাষ্ট্রীয় শিল্প সম্পদকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
বিডা প্রধান জানান, চলতি বছরের শুরুতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়নে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সময় লাগছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার কথা শোনা যায়, তা হলো গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ অর্জন সম্ভব নয়। এ কারণে জ্বালানি সংকট নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিডা।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, এই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান না থাকলেও এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আনা সম্ভব হয়। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে সংস্থাটি।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এ সফরে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দরে বিনিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের বিষয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানান বিডা প্রধান। তিনি বলেন, আগে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এসব অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়ন করাই বিডার বর্তমান লক্ষ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে দেশীয় ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।