নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, এসব উৎসব শুধু পার্বত্য অঞ্চলের নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্ষবিদায়, চৈত্রসংক্রান্তি ও বর্ষবরণ উৎসবকে স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরাসরি ও অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সচিব বলেন, সাংস্কৃতিক বন্ধন শক্তিশালী করতে হলে এসব উৎসব সম্পর্কে দেশের সব মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তবে উৎসবগুলোর স্বকীয়তা বজায় রাখতে এর আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলেই হওয়া অধিকতর উপযোগী।
তিনি আরও বলেন, কেবল একটি সেমিনারের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে উত্তরণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এ জন্য তিন পার্বত্য জেলায় ধারাবাহিকভাবে আরও ফলপ্রসূ আলোচনা ও সেমিনারের আয়োজন প্রয়োজন। বর্তমান উদ্যোগ এ লক্ষ্যে একটি আশাব্যঞ্জক সূচনা হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে ‘বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান: সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, জাতীয় সংহতি এবং স্থানীয় থেকে জাতীয় উৎসবে উত্তরণের রূপরেখা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এসব উৎসবের মূল দর্শন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করা এবং শান্তি-সমৃদ্ধির প্রত্যাশা। জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলেও তিনি মত দেন।
মূল প্রবন্ধে উৎসবগুলোকে জাতীয় সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা, শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এসব উৎসব বাংলাদেশের বহুত্ববাদী রাষ্ট্রচেতনা ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল প্রতীক।
সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনলাইনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দফতর, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এমআর/এএইচ