নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
দেশে গমের উৎপাদন বাড়াতে তামাক চাষের জমিসহ বিভিন্ন অনাবাদি ও কম ব্যবহৃত এলাকায় গমের আবাদ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে ২ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে গমের চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে গম চাষ বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে প্রধান গম উৎপাদন এলাকায় নতুন ও উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধানভিত্তিক ফসল বিন্যাসে গমকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ধান-গম-পাট এবং ধান-গম-মুগডাল ফসল ধারার সম্প্রসারণের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের হালকা বুনটের মাটিতে অধিক লাভজনক চার ফসলভিত্তিক ‘আগাম আলু-গম-ভুট্টা-আমন ধান’ ফসলচক্র জনপ্রিয় করার কাজ চলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকা, সিলেট অঞ্চলের পতিত জমি, চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল, পাহাড়ি সমতল এলাকা এবং তামাক চাষের জমিতে গমের আবাদ সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গমের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গবেষণার কথাও তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হেক্টরপ্রতি ৬ টন বা তার বেশি ফলন দিতে সক্ষম গমের জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে কাজ চলছে। একই সঙ্গে আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
কৃষকদের উৎপাদিত গমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে গম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গম চাষ সম্প্রসারণে প্রতি বছর কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ জন কৃষককে প্রতি বিঘা জমির জন্য ১০ কেজি গম বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার সরবরাহ করা হয়েছে।
টিএই/এআর