images

অর্থনীতি

পোশাক খাতের জন্য বাড়তি সহায়তা চায় বিজিএমইএ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় দেশের প্রধান রফতানি খাতের জন্য আরও কিছু নীতিগত সহায়তার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) বাজেটের ওপর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ বলেছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সামষ্টিক অর্থনীতিকে সচল রাখা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

সংগঠনটির মতে, বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিনিয়ন্ত্রণকরণসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিল্পায়ন ও এলডিসি-পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।

বিজিএমইএ বলেছে, কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা অন্তত পাঁচ বছর বজায় রাখার পরিকল্পনা, এসআরও নির্ভরতা কমিয়ে ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থা চালু এবং নগদ সহায়তার বিপরীতে উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত শিল্পখাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, সাত দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদান এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের উদ্যোগ ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজীকরণ এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জন্য দ্রুত ওয়ার্ক পারমিট প্রদানের ব্যবস্থাও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর অবকাশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি, পুনর্ব্যবহৃত পণ্যের করহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পে প্রণোদনাকে টেকসই শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিজিএমইএ।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শিথিল এবং প্রচ্ছন্ন রফতানিকারকদের জন্য নতুন সুবিধাগুলোও ব্যবসা পরিচালনা সহজ করবে বলে মনে করে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিজিএমইএ বলেছে, এর মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য করমুক্ত টার্নওভারের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকেও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিজিএমইএ বলেছে, দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ কারণে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে কিছু অতিরিক্ত নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

সংগঠনটি জানিয়েছে, বাজেটে পোশাক রফতানির উৎসে করের হার ১ শতাংশ বহাল রাখা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখার দাবি রয়েছে তাদের। পাশাপাশি তারল্য সংকট বিবেচনায় উৎসে কর সম্পূর্ণ মওকুফের বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার ওপর সাব-কন্ট্রাক্ট মূল্যের দ্বৈত উৎসে কর প্রত্যাহার, ভ্যাট অব্যাহতি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হবে।

টিএই/এএস