images

অর্থনীতি

ডাচ-বাংলার বুথে টাকার সংকট, ভোগান্তিতে গ্রাহক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে নগদ অর্থ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। ঈদ-পরবর্তী সময়ে বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। 

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি তারল্য সংকট নয়; বরং ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট সাময়িক পরিস্থিতি।

শনিবার (১৩ জুন) ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেকেই নগদ টাকার জন্য বুথের ওপর নির্ভর করে থাকেন। এদিন সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডাচ-বাংলার একাধিক এটিএম বুথে নগদ অর্থের ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া যায়। 

রাজধানীর নিউমার্কেট, পুরান ঢাকা, মুগদাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার ডাচ বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক বুথগুলোতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন টাকা নেই। একই চিত্র দেখা যায়  শুকবারও।

মুগদা এলাকার একটি ফাস্ট ট্র্যাক বুথে দেখা যায় বুথের ওপর একটি খাতা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। 

এখান থেকে টাকা তুলতে এসে এক গ্রাহক জানান, পথে কয়েকটি বুথে চেষ্টা করেও তিনি কোথাও নগদ অর্থ পাননি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও অনেক গ্রাহক। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

মহসিন নামে একজন গ্রাহক ফেসবুকে লিখেছেন, সকালে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথে টাকা না পেয়ে তিনি বাজারে যান। পরে মাছ বিক্রেতাকে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে বাজার করতে হয়েছে। 

আরেক গ্রাহক মারুফ জানান, বনশ্রী, রামপুরা ও আফতাবনগর এলাকার কয়েকটি বুথে চেষ্টা করেও তিনি টাকা তুলতে পারেননি।

ডাচ বাংলা ব্যাংক ফাস্ট ট্র্যাক বুথের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, বুথে টাকা না থাকায় আমাদেরও বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে। গ্রাহকদের কথা শুনতে হচ্ছে।
 
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ নগদ অর্থ সরবরাহ না পাওয়ায় সাময়িকভাবে কিছু বুথে নগদ অর্থের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে ব্যাংকের ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল অর্থের কোনো সংকট নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ মানুষের হাতে চলে যাওয়ায় সাময়িকভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কিছু ব্যাংকের এটিএম বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে এটি কোনো ব্যাংকের নিজস্ব আর্থিক সংকট নয়।

তিনি জানান, গত কয়েক বছরে নতুন নোট ছাপানোর গতি চাহিদার তুলনায় কম ছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন কারণে নতুন নোট বাজারে সরবরাহ প্রক্রিয়াও ধীরগতির হয়েছে। এর প্রভাব নগদ অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগের আরেক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের মে মাস শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মার্চ মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তার মতে, কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে চলে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। ঈদের ছুটি শেষে এসব অর্থ ধীরে ধীরে আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মুদ্রার কোনো সংকট নেই। ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগদ অর্থের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ছুটির পর বেতন-ভাতা পরিশোধের কারণে সাময়িকভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এটি স্বাভাবিক ও অস্থায়ী পরিস্থিতি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নগদ অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক।

টিএই/এএইচ