নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুন ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও তা বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় বলে মনে করছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তবে বাজেট বাস্তবায়নে দূরদর্শিতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৩ জুন) বাজেট প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এফবিসিসিআই এসব কথা জানায়।
সংগঠনটি অর্থমন্ত্রীকে নতুন বাজেট উপস্থাপনের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, ব্যবসার পরিবেশ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ব্যবসায়ীরা।
এফবিসিসিআইর মতে, অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সরকারের ঘোষিত ‘ত্রিআর’ কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে এ বাজেটের আকারকে অবাস্তব মনে করছে না এফবিসিসিআই। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বাজেট বাস্তবায়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণকে ইতিবাচক উল্লেখ করে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
তবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব নীতি এবং বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এফবিসিসিআই মনে করে, ঘাটতি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তুলনামূলক কম সুদে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।
এফবিসিসিআই আরও বলেছে, বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে সংস্কার কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণের চাপ, বৈদেশিক ঋণের বোঝা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা আগামী অর্থবছরের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি করপোরেট করহার পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে এফবিসিসিআই।
তবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটি।
এমআর/এএস