images

অর্থনীতি

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে শুল্ক-কর ছাড় যুগান্তকারী উদ্যোগ: অ্যাকশনএইড

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ এএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক শুল্ক-কর অব্যাহতিকে দেশের জ্বালানি রূপান্তরের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেটবিডি)।

শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সংগঠন দুটি সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, দীর্ঘদিনের আমদানি-নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) শিল্পে নজিরবিহীন শুল্ক-কর ছাড় দেশের ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংগঠন দুটি মনে করে, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জন এবং ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ বাজেট শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও এ খাতের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তারা সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন উপকরণ আমদানিতে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও আগাম কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণ এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাবকে বিশেষভাবে প্রশংসা করে। পাশাপাশি দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলতে গৃহীত নীতিকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিক্রিয়ায় আরও বলা হয়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার বহাল রাখা এবং গ্রাহকদের সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহায়ক হবে।

অ্যাকশনএইড ও জেটনেটবিডি জানায়, ব্যাটারি শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত শুল্ক ও কর অব্যাহতি এবং ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদন ও আমদানিতে কর ছাড় দেশের পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নকে এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে কর শূন্য করার সিদ্ধান্তও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংগঠন দুটি আরও উল্লেখ করে, জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ওপর কর বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনে কর সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে সরকার জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করেছে।

প্রতিক্রিয়ায় তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, দুর্নীতি প্রতিরোধ, ক্যাপাসিটি চার্জ পর্যালোচনা এবং সর্বনিম্ন ব্যয়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগকেও স্বাগত জানায়।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও জেটনেটবিডি মনে করে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এ বাজেট ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি দূরদর্শী ও টেকসই নীতির প্রতিফলন।

এমআর/এমআই