images

অর্থনীতি

ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে দেশে ক্রাইসিস তৈরি হবে: জ্বালানি মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

বিগত সরকারের সময়ে চালু হওয়া বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কোম্পানিগুলোকে এখনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। এটি বন্ধ করা হলে সরকার বিদ্যুৎ বিভাগ চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি বসেছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী। তখন তারা তাকে জানিয়েছে বর্তমান সরকার ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করে দিলে তাদের কাছে ব্যাংকগুলো ঠিকই টাকা নেবে। এজন্য তারা সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছে বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলেছে যে আপনি যদি ক্যাপাসিটি চার্জ এখন বন্ধ করে দেন আমাদের ব্যাংকে আমাদের টাকা পড়ে যাবে। আমরা সেটা পারবো না। আর যদি ক্যাপাসিটিটা বন্ধ করে দেন তাহলে আমরা পাওয়ার চালাতে পারবো না। তাহলে আমার অবস্থাটা বুঝতে হবে আপনাদেরকে। আমি যদি এটা জোর করতে চাই, যদি পাওয়ার বন্ধ করে দেয় তাহলে কিন্তু এই দেশের মধ্যেও আবার পাওয়ারের ক্রাইসিস সৃষ্টি হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের যে পাওয়ার স্টেশনগুলো ছিল সেই পাওয়ার স্টেশনগুলো কোনো মেরামতও করে নাই। মেনটেইনেন্স করে নাই। তাদেরকে বসে রেখেছিল এবং সব পাওয়ার ক্রয় করা হয়েছে প্রাইভেট পাওয়ার থেকে। যার জন্য ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া হয়ে গেছে। আমরা এই ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে আমরা অপিনিয়নের (সিদ্ধান্তের) জন্য পাঠিয়েছি। আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ফেভারেবল অপিনিয়ন (সিদ্ধান্ত) আসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই ক্যাপাসিটি চার্জটাকে অ্যাড্রেস করব। কিন্তু আপনাদের বুঝতে হবে যে ফ্যাসিস্ট সরকার এই জিনিসগুলো করেছিল। এগুলো করার জন্য আমরা জাস্ট তাদের ব্যাগেজটা ক্যারি করছি।’

এসময় তিনি সরকারের জ্বালানি বিভাগের দুটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, আমি দুইটা এক্সাম্পল (উদাহরণ) দিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করব। একটা হলো পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পাঁচ লক্ষ ডিজিটাল মিটারের অর্ডার দিয়েছে। আড়াই লক্ষ মিটার এনেছেন। এনে এই তিন বছরে মাত্র ৬৫টি মিটার সিংক্রোনাইজ করতে বলেছে। আর সব পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গুদামে মিটারগুলো পড়ে আছে। এর মধ্যে আরও যে আড়াই লক্ষ মিটার আমরা এসে যখন দেখলাম যে, পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে অলরেডি জাহাজীকরণের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় সরকার সেই পাঁচ লাখ মিটার অর্ডারকে বাতিল করতেও পারছে না। এভাবে বিগত সরকার এভাবে বিভিন্নভাবে লুটপাট করেছে বলে জানান তিনি। 

অন্যদিকে বিদ্যুতের আরেক কোম্পানি ডিপিডিসি উন্নয়ন করার জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলের ব্যবস্থা করেছে। এখানে ৬৫টা সাবস্ক্রিপশন করার কথা। প্রকল্পের যে মেয়াদ ছিল সেই মেয়াদ নভেম্বর মাসে শেষ হবে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৮টি সাবস্টেশন বসেছে। কিন্তু এই কোম্পানিটি প্রফিট করতে না পারলেও তারা রাজধানীর শাহবাগ থানার পাশে একটি টুইনটাওয়ার নির্মাণ করছে বলে জানান। তার মতে, ডিপিডিসি উন্নয়ন করার জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলের ব্যবস্থার প্রকল্পটি এখন বাতিল করলে সরকারের পুরো টাকা ক্ষতি হবে।

তিনি বলেন, ‘এটা গেলেও আমাদের জন্য খুব ডিফিকাল্ট এই যে প্যাকেজগুলো দিয়ে গেছে, লুটপাট করে চলে গেছে, এগুলো আমরা তিন মাস চার মাসের গভর্নমেন্ট আসছি আমাদেরকে অ্যাড্রেস করতে হচ্ছে। সুতরাং আপনাদেরকে আমাদের একটু সময় দিতে হবে এই জন্য এগুলোকে অ্যাড্রেস করার জন্য।’

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, জনপ্রশাসন সচিব নাসিমুল গণি ও অর্থ সচিবসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

এমআইকে/এমআই