নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোর বোর্ডের সর্বশেষ সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই আমানতকারীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন— অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।
এই মূহুর্তে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইসলামী ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে শুরু হওয়া অস্থিরতার বিষয় গড়িয়েছে জাতীয় সংসদেও।
এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এখনো চলছে। মাঠের কর্মসূচির পর এবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ তুলে নিচ্ছেন- এমন অভিযোগ ওঠার পর তা ব্যাংকিং সেক্টরে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এর মধ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) এ ইস্যুতে সংসদেও পালটাপালটি বক্তব্য দিয়েছে সরকার ও বিরোধী দল। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকটির অতীত অনিয়ম এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহারের নানা খতিয়ান সংসদে তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি তুলেছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া ব্যাংকটির তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এরই মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তাও চেয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
সবশেষ বুধবার (১০ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনায় ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যাংক খাতের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ বা এবিবি।
ক.ম/