জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১১ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি জনপ্রিয় করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (প্রস্তাবিত) বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটে ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বাজেটে ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সকল প্রকার শুল্ককর প্রত্যাহার করার প্রস্তাব এসেছে। সেই সঙ্গে নতুন বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ককর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করহার ৯৩ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ২৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ি ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জ্বালানী নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অনুরূপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সমুদয় শুল্ক-কর এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস-ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ব্যতীত সমুদয় শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এই সুবিধা আগামী ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
এদিকে, নতুন বাজেটে প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যালের ক্ষেত্রে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতা সম্পন্ন গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক গাড়ির ধরণভেদে হ্রাস করার এবং ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন গাড়ি আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছি।
যারফলে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ৯৩.১৬ শতাংশ হতে হ্রাস হয়ে ৭৩.৪৩৭ শতাংশ হবে এবং ২০০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ১৩২.৩৬ শতাংশ হতে হ্রাস পেয়ে ৯৬.১০ শতাংশ হবে।
এছাড়া বাজেটে ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সকল প্রকার শুল্ককর প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রিক গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে জরুরি দেশব্যাপী বিস্তৃত চার্জিং নেটওয়ার্ক। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার এবং চার্জিং স্টেশন (Electric Vehicle Charger or Charging Station) এর জন্য আমদানি পর্যায়ে মোট করভার ৩৯.৭৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে শূণ্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।
তবে নতুন বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ককর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোল চালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যান ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে মধ্যম সারির ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানিকৃত গাড়ির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার ১৩২.৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫.৮৮ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।
যদিও অন্যান্য গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করভার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেন তিনি।
এএম/এআর