নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) এবং চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে বড় শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কিছু গাড়ি আমদানিতে কর বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে বাজেটে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় এ তথ্য জানানো হয়। পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে মোট করভার প্রায় ৯৩ শতাংশ। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইভির ক্ষেত্রে মোট করভার কমে ৬৪ শতাংশ হবে। আর ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইভির জন্য করভার ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) আমদানিতেও কর সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন পিএইচইভি গাড়ির সম্পূরক শুল্ক কমানোর পাশাপাশি ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন পিএইচইভি গাড়ির নিয়ন্ত্রক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি গাড়ির মোট করভার বর্তমান ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশে নামবে। আর ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি গাড়ির করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশে নেমে আসবে।
চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতেও বড় ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের আমদানিতে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রস্তাব কার্যকর হলে তা শূন্য শতাংশে নেমে আসবে। দেশব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনযুক্ত আমদানিকৃত গাড়ির ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এসব গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে অন্যান্য শ্রেণির গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হবে।
এমএইচ/ক.ম