images

অর্থনীতি

বাজেটে জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে অধিক বিনিয়োগের দাবি বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমাগত বাড়লেও দেশের স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দের অংশ কমে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে অধিক বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়নের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের নীতিসংলাপে এ দাবি জানানো হয়।

সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), HEKS/EPER এবং সুশীলনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিষয়ে দুটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

সংলাপে জানানো হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের অংশ ২০২১–২২ অর্থবছরে ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ থাকলেও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা কমে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় জলবায়ু বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অংশ প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

গবেষণায় উঠে আসে, উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গুরুতর প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন। দারিদ্র্য, নিরাপদ পানির সংকট এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে মাসিকসংক্রান্ত সমস্যা, গর্ভপাত, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, সংক্রমণ, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণসহ নানা জটিলতা বাড়ছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, নিরাপদ পানি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতা এসব সমস্যাকে আরও তীব্র করেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন: নীতিগত অঙ্গীকার ও আর্থিক বাস্তবতা শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, জলবায়ু নীতিমালায় স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও বাস্তব অর্থায়নে তার প্রতিফলন নেই। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) মোট অর্থায়নের ১ শতাংশেরও কম স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়া ৮৭৭টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র তিনটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৩–২০৫০ এবং স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এইচন্যাপ) অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমান অর্থায়ন এখনো প্রকল্পনির্ভর এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে।

সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন এখনো একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র। বৈশ্বিক পর্যায়ে অধিক অর্থায়ন আকর্ষণ করতে হলে শক্তিশালী পরিমাণগত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্মত পানির প্রাপ্যতার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আহরণের জন্য শক্তিশালী ক্লাইমেট র্যাশনাল তৈরি করা জরুরি। তিনি জলবায়ু বাজেট ট্যাগিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাতভিত্তিক ঝুঁকি সূচক প্রণয়ন এবং তৃতীয় পক্ষের যাচাইব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিটের (সিসিএইচপিইউ) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির বলেন, বিশ্বব্যাপী মোট জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে আসে। তথ্য-উপাত্তের ঘাটতির কারণে শক্তিশালী অর্থায়ন প্রস্তাব তৈরি এবং কার্যকর নীতি প্রণয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোপুরি মূলধারায় আসেনি। তিনি জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন আহরণের জন্য কার্যকর বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানান।

এমআর/এআর