Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

‘নতুন পে-স্কেল অর্থনীতিতে গতি আনবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার (৬ জুন) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির এক বিবৃতিতে এই অভিমত তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ বছরে দুটি পে-স্কেল কার্যকরের যৌক্তিক সুযোগ থাকলেও কোনো নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে।

সংগঠনটির মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়বে, যা উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারের ব্যয় করা অর্থ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে প্রবাহিত হয়ে বহুমাত্রিক মূল্য সংযোজন সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ গ্রহণের সক্ষমতা বাড়লে আবাসন ও নির্মাণ খাতেও নতুন গতি সঞ্চার হবে।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, বেতন বৃদ্ধি পেলে ভোগব্যয়ও বাড়বে, যার ফলে ভ্যাট ও কর আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অতিরিক্ত রাজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পেলে জনসেবার মান উন্নত হবে এবং দুর্নীতির প্রবণতা কমার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলের প্রত্যাশিত সুফল নিশ্চিত করতে বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন পে-স্কেল কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও শক্তিশালী করার একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে।

এম/এফএ