নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
বুধবার (৩ জুন) রাতে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই) প্রি-বাজেট রাউন্ডটেবিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের উদীয়মান ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে উদ্যোক্তারা সহজে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে পারবেন। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতকে শুধু সহযোগী নয়, বরং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে প্রযুক্তিনির্ভরতা ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং ফ্রুগাল ইনোভেশন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এসব খাত শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, বরং নতুন কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় দীর্ঘ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ও বহুমুখী অনুমোদন ব্যবস্থা একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার একক সেবা কেন্দ্র বা ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম থেকেই সব ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবসায়িক অনুমোদন সম্পন্ন করার মতো দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ডিজিটালাইজড ট্যাক্সেশন ব্যবস্থা চালু হলে রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে বন্দর ও আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সময় ও খরচ কমাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত এবং কম খরচে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারেন।
নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হলে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, কর ব্যবস্থার সরলীকরণ, পুঁজিবাজার সংস্কার এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দ্রুত অনুমোদন, স্বচ্ছ নীতি এবং পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয়।
ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের প্রতিনিধিরা বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত ও কার্যকর সংলাপ একটি আধুনিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এই রাউন্ডটেবিল থেকে উঠে আসা সুপারিশগুলো ভবিষ্যৎ বাজেট ও নীতিনির্ধারণে বাস্তব প্রতিফলন পাবে।
অনুষ্ঠান শেষে নেটওয়ার্কিং ডিনারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আরও বিস্তৃত মতবিনিময় করেন।
এএইচ/এআর