images

অর্থনীতি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর-জনমুখী করার ঘোষণা মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি কার্যকর, দক্ষ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে চারটি অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, চা শিল্পের পুনরুজ্জীবন, এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই হবে মন্ত্রণালয়ের প্রধান কর্মসূচি।

মঙ্গলবার (০২ জুন) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অনেক সংবেদনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য দেশে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি। জনগণের স্বার্থে সারা বছর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একটি টেকসই মূল্য-স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্প বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। একসময় রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই খাতকে পুনরায় শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বয়ে শিল্পটির সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় সফল ও মসৃণভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ), ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) এবং বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে মৌসুমি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনগণ ভোগান্তিতে না পড়ে।

এসময় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে একটি আধুনিক রিসোর্স সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও ভারতের মডেল পর্যালোচনা করে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা বাণিজ্য, বাজার ও খাতভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে সরকার ও বেসরকারি খাতের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী বা সচিবের পদ স্থায়ী নয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠান স্থায়ী। তাই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম খান সভা পরিচালনা করেন। এ সময় মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/এএস