images

অর্থনীতি

খেলাপি ঋণের বড় উত্থান, ছাড়াল ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়াও এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে খেলাপি ঋণ ছিল চার লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চ ২০২৬ ভিত্তিক শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত বা মন্দ ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ডিসেম্বর শেষে এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ফলে এক প্রান্তিকে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একই সময়ে মোট শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে উঠেছে।

ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের হার ডিসেম্বরের ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে মার্চে ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকে এ হার ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ দশমিক ১১ শতাংশে, বিদেশি ব্যাংকে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৮২ শতাংশে এবং বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশে বেড়েছে।

মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা ডিসেম্বর শেষে ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ১০৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এ ঋণ ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণ ২ হাজার ৯৮৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২৬২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা হয়েছে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে তা ১৮ হাজার ৫৪৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৯ হাজার ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ, যা ডিসেম্বর শেষে ছিল ৪৩ শতাংশের বেশি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ২৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

পরিমাণের দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেই সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে। মার্চ শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭০৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বিদেশি ব্যাংকে ২ হাজার ৬৯৫ কোটি ৯২ লাখ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকে ১৭ হাজার ৬৪৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ বাড়লেও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি। মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে মোট ঋণ বিতরণ ৮২ হাজার ৬৭৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যাংক খাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

টিএই/ক.ম