images

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের স্ত্রী ঋণখেলাপি: বাংলাদেশ ব্যাংক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম ঋণখেলাপি নন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, তার স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণ থাকলেও খুরশীদ আলম নিজের ঋণ নেই। তার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের ঋণটি সম্ভবত খেলাপি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা চলছে, তার বাস্তব অবস্থা এটিই।

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী। ওই ঋণ পরবর্তীতে খেলাপি হয়েছে। তবে খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ওই ঋণের গ্রহীতা নন এবং তাকে ঋণ খেলাপি হিসেবে অভিহিত করাও সঠিক হবে না।

খুরশীদ আলমকে ঘিরে আলোচিত আরেকটি বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, রংপুর অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল, সে সময় তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।

তিনি বলেন, সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল না বলে পরে প্রতীয়মান হয়। এ কারণেই পরবর্তীতে তিনি নির্বাহী পরিচালক এবং পরে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি পান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ একটি অফিস আদেশ জারি করে। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশনস-২০০৩-এর ৪৪(১)(বি) ধারা অনুযায়ী তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত করা হয়।

আরও পড়ুন: চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আজও সড়কে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মনে করে এবং কোনো আন্দোলন বা চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রশ্নই আসে না।

তিনি বলেন, কোনো পক্ষের আন্দোলনের কারণে যদি একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য পক্ষও একইভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি তুলবে। এভাবে কোনো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতে পারে না।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভার অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে অনলাইন সভার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

টিএই/এআর