images

অর্থনীতি

‘ব্যাংকে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০১ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

ব্যাংক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই সেই চাপ মোকাবিলা করবেন।

সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলামী ব্যাংক ঘিরে চলমান বিক্ষোভ, বোর্ড পরিচালনা এবং পরিচালক নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনো ব্যাংকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত রাস্তার আন্দোলন বা চাপের মুখে নেওয়া হবে না। যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মত প্রকাশ, বিক্ষোভ বা আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ও বিধি অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তই আবেগ, জনমত বা চাপের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে না। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আইনগত কাঠামো বিবেচনায় নিয়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার দায়িত্ব পালন করবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এক ব্যক্তির প্রায় তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণের অভিযোগের বিষয়ে যাচাই করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, পরিচালক নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা বাধ্যতামূলক। আইন লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই এবং এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের কারণে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সে কারণেই সরাসরি সভার পরিবর্তে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বোর্ড সভা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবনের বাইরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মুখপাত্র বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। একটি ব্যাংক যদি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যালোচনা করছে কোনো ব্যাংক বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা সংগঠনের সংকটে পরিণত হচ্ছে কি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান স্পষ্ট— কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের হতে পারে না এবং রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা আর্থিক খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

টিএই/এফএ