images

অর্থনীতি

চট্টগ্রাম থেকে বিপিসি সরবে না, ওজন স্কেল বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস

জেলা প্রতিনিধি

৩০ মে ২০২৬, ১২:১৬ এএম

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বড় দারোগারহাট এলাকায় পণ্য পরিবহনের ওজন স্কেল সংক্রান্ত ভোগান্তি ও বৈষম্য দ্রুত সমাধান করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের বাণিজ্য সহজীকরণ নিয়ে নবনির্বাচিত চট্টগ্রাম চেম্বার নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রীর মেহেদীবাগের বাসায় প্রায় দেড় ঘণ্টার অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব আলোচনা হয়।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকের নেতৃত্বে চেম্বারের প্রেসিডিয়াম নেতারা এতে অংশ নেন। গত ২৩ মে নির্বাচনে ২৪ জন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর এটি ছিল চেম্বারের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বৈঠক।

বৈঠকে চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক বলেন, এটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও একপর্যায়ে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

তিনি জানান, বৈঠকে বিপিসির সদর দপ্তর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগের বিষয়টি আলোচনায় এলে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেন যে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই থাকবে।

বৈঠকে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য বাণিজ্য সহজীকরণের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচিত হয়। এর মধ্যে ছিল চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ চালু, ট্যারিফ কমানো, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট আদায়, চট্টগ্রাম কাস্টমসে আধুনিক ল্যাব স্থাপন, বন্দরে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো, ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছর মেয়াদি করা এবং ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ।

চেম্বার নেতারা জানান, এসব বিষয়ে মন্ত্রী গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং কিছু বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাস দেন।

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে ওজন স্কেল সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যার বিষয়ে চেম্বারের সহ-সভাপতি মশিউল আলম স্বপন সমাধানের দাবি জানান। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করা হবে এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এককভাবে এই ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর আহমদ বৈঠকে দুটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, রফতানি পণ্যের মতো আমদানি পণ্যের তথ্যও উন্মুক্ত করা হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা, ট্যারিফ হ্রাস এবং চার্জ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। অতীতে মংলা বন্দর ব্যবহারে যেভাবে ট্যারিফ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, সেভাবেই চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বারভিডার সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল হাবিবুর রহমান বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে বাজেটে প্রণোদনা ও আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান।

বৈঠকে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের আহ্বায়ক আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম এবং চেম্বারের নতুন ২২ জন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তবে নতুন সিনিয়র সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।